Posts

Showing posts from November, 2025

কোর্টের মাধ্যমে তালাক দেওয়ার নিয়ম

  স্বামী বা স্ত্রী—যে কেউ চাইলে কোর্টের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ (Divorce / Dissolution of Marriage) করতে পারেন। যেখানে স্বাভাবিক তালাক বা নোটিশের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব নয়, সেখানে কোর্টের ডিক্রি দিয়ে বিবাহ শেষ করা হয়। নিচে কোর্টের মাধ্যমে তালাক করার সাধারণ ধাপ দেওয়া হলো। ১️⃣ আইনজীবীর সহায়তা নিয়ে মামলা প্রস্তুতি প্রথম ধাপ হলো একটি ফ্যামিলি কোর্টে Divorce Suit বা Dissolution Petition দায়ের করা। মামলায় সাধারণত লিখতে হয়— স্বামী–স্ত্রীর নাম, ঠিকানা বিবাহের তারিখ ও রেজিস্ট্রেশন সমস্যা/অভিযোগ/অসহনীয় পরিস্থিতির বিবরণ তালাক প্রয়োজন কেন সন্তানের হেফাজত বা ভরণপোষণের দাবি (যদি থাকে) এটি মামলার মূল “Plaint/Petition”। ২️⃣ কোর্টে মামলা দায়ের (Filing the Case) পিটিশন প্রস্তুত হলে ফ্যামিলি কোর্টে জমা দিতে হয়। কোর্ট মামলা গ্রহণ করে একটি কেস নম্বর প্রদান করে। ৩️⃣ কোর্ট নোটিশ জারি কোর্ট অপরপক্ষকে (স্বামী বা স্ত্রীকে) নোটিশ পাঠায়। নোটিশে উল্লেখ থাকে— মামলা হয়েছে শুনানির তারিখ কোর্টে হাজির হতে হবে অপরপক্ষ হাজির না হলে ex-parte (একতরফা) বিচারও হতে পারে। ৪️⃣ শুনানি ও সমঝোতার চেষ্টা (Mediation / Conciliation)...

তালাক নোটিশ কিভাবে পাঠাতে হয়?

  তালাক কার্যকর করার জন্য অধিকাংশ দেশে লিখিত তালাকনামা তৈরি করে স্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ পাঠানো বাধ্যতামূলক। নোটিশের লক্ষ্য হলো— স্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা, সমঝোতার সুযোগ রাখা, আইনি প্রমাণ তৈরি করা। ১️⃣ তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে লিখিত তালাকনামা প্রস্তুত করুন প্রথম ধাপ হলো স্পষ্ট একটি লিখিত তালাকনামা (Written Divorce Deed) তৈরি করা। তালাকনামায় সাধারণত থাকে— স্বামীর নাম, ঠিকানা স্ত্রীর নাম, ঠিকানা বিবাহের তারিখ তালাক ঘোষণার স্পষ্ট বাক্য কারণ (ঐচ্ছিক, কিন্তু যুক্তিযুক্ত হলে ভালো) তারিখ ও স্বাক্ষর চাইলে আইনজীবীর সাহায্যে ড্রাফট করতে পারেন। ২️⃣ প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষ/অফিস নির্বাচন দেশভেদে তালাক নোটিশ সাধারণত পাঠানো হয়— স্থানীয় ইউনিয়ন/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন কাজী অফিস ত্রিপক্ষীয় সালিশ বোর্ড/আরবিট্রেশন কাউন্সিল অথবা ফ্যামিলি কোর্ট (কিছু দেশে) → এই অফিসেই তালাকের রেকর্ড রাখা হয় এবং প্রয়োজন হলে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। ৩️⃣ তালাক নোটিশ জমা দিন (By Hand বা Courier) নোটিশ পাঠানোর সাধারণ পদ্ধতি হলো— ✔ ১. সরাসরি অফিসে জমা (By hand submission) তালাকনামা ও নোটিশ অফিসে জমা দিন ...

তালাক কিভাবে প্রত্যাহার করা যায়?

  তালাক প্রত্যাহারকে আরবিতে বলা হয় “রুজু” (Ruju’)। স্বামী তালাক উচ্চারণ বা লিখিতভাবে দেওয়ার পরে নির্দিষ্ট শর্তে ইদ্দত চলাকালীন তালাক বাতিল বা প্রত্যাহার করা যায়। ১️⃣ তালাক প্রত্যাহার করার মৌলিক শর্ত তালাক প্রথম অথবা দ্বিতীয় হলে— ➡️ ইদ্দতের সময় শেষ হওয়ার আগে স্বামী রুজু করতে পারলে তালাক সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যায়। 👉 তৃতীয় তালাক (তালাক–এ-মুগল্লাজ়া) হলে রুজুর কোনো সুযোগ নেই। ২️⃣ ইদ্দত শেষ হওয়ার আগেই রুজু করতে হয় ইদ্দতের সময় সাধারণত— ৩টি মাসিক চক্র, বা মাসিক না হলে ৯০ দিন, বা গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসব পর্যন্ত ইদ্দত শেষ হয়ে গেলে তালাক চূড়ান্ত হয়ে যায় এবং তখন আর রুজু করা যায় না—শুধুমাত্র নতুন মোহরানা সহ নতুন বিবাহ (নতুন নিকাহ) করতে হয়। ৩️⃣ রুজু (তালাক প্রত্যাহার) করার পদ্ধতি ✔ ১. কথায় (Oral Revocation) স্বামী স্ত্রীকে স্পষ্টভাবে বলে— “আমি তোমাকে রুজু করলাম” “তালাক বাতিল” “তোমাকে ফিরিয়ে নিলাম” এটি অনেক দেশেই বৈধ। ✔ ২. কাজে (Conduct-based Revocation) স্বামী–স্ত্রী স্বামী–স্ত্রীর সম্পর্ক (দাম্পত্য আচরণ) পুনরায় শুরু করলে ইদ্দতের মধ্যে তালাক আপনা–আপনি বাতিল হয়ে যায়। ✔ ৩. লিখিতভাবে (Written Revo...

তালাক কিভাবে কার্যকর হয়? (ইসলামিক শরিয়াহ এবং সাধারণ আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে)

  তালাক কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়া মূলত তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়— (১) ঘোষণার ধাপ, (২) ইদ্দতকাল, (৩) নিবন্ধন/নথিভুক্তকরণ তবে দেশভেদে আইন কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। ১. তালাকের ঘোষণা (Pronouncement of Divorce) স্বামী স্পষ্টভাবে “তালাক” ঘোষণা করলে বা বৈধ লিখিত তালাকনামা দিলে প্রক্রিয়া শুরু হয়। তালাক হতে পারে— এক বার উচ্চারণে লিখিত দলিলে কোর্ট বা কাউন্সিলের মাধ্যমে 👉 ঘোষণা পরিষ্কার, দ্ব্যর্থহীন ও সুস্পষ্ট হতে হবে। ২. ইদ্দতকাল (Waiting Period) তালাক ঘোষণা করার পর স্ত্রীকে ইদ্দতকাল পালন করতে হয়। সাধারণত— ৩ মাসিক চক্র (৩টি হায়েজ), বা যদি মাসিক না হয়: ৯০ দিন, বা গর্ভবতী হলে: সন্তান জন্ম পর্যন্ত এই সময়: স্বামী-স্ত্রী এক সঙ্গে থাকতে পারেন, তবে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক স্থাপন করলে তালাক বাতিল (রুজু) হয়ে যায়। ইদ্দত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তালাক সম্পূর্ণ কার্যকর হয় না। অর্থাৎ তালাক চূড়ান্ত হওয়ার বড় শর্ত হলো ইদ্দতের সমাপ্তি। ৩. তালাক নিবন্ধন বা নথিভুক্তকরণ বেশিরভাগ দেশে তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে থাকে— লিখিত তালাকনামা তৈরি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ/ইউনিয়ন কাউন্সিল/কাজী অফিসে জমা নোটিশ ...

কোর্টে এফিডেভিট বা হলফনামা (Court Affidavit) কিভাবে করবেন?

  কোর্টে মামলা পরিচালনা, নোটারি কাজ, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ কিংবা পরিচয় যাচাইকরণের মতো নানা ক্ষেত্রে এফিডেভিট বা হলফনামা এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি দলিল। এটি মূলত একটি শপথবদ্ধ লিখিত বিবৃতি, যেখানে তথ্যদাতা সত্য ও সঠিক তথ্য দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।  এফিডেভিট বা হলফনামা কি? এফিডেভিট হল একটি শপথবদ্ধ ঘোষণাপত্র, যা ম্যাজিস্ট্রেট, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, নোটারি পাবলিক বা কোর্ট কমিশনারের সামনে স্বাক্ষরিত হয়। তথ্যদাতা (Deponent) এতে উল্লেখ করেন যে তার দেওয়া সকল তথ্য সম্পূর্ণ সত্য, এবং যদি মিথ্যা প্রমাণিত হয় তবে তিনি আইনগতভাবে দায়ীবদ্ধ থাকবেন। কোর্টে এফিডেভিট করার ধাপসমূহ ১. কোন বিষয়ে এফিডেভিট লাগবে তা নির্ধারণ করুন বিভিন্ন কাজে এফিডেভিট প্রয়োজন হতে পারে— নাম পরিবর্তন জন্মতারিখ সংশোধন সম্পত্তি বা জমি সংক্রান্ত বিবৃতি পরিচয় নিশ্চিতকরণ বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ বা পারিবারিক মামলার প্রয়োজন হারানো নথি (Lost Documents) সংক্রান্ত ঘোষণা আগে নিশ্চিত করুন আপনার প্রয়োজনটি কী, কারণ সেই অনুযায়ী ড্রাফট ও ভাষা তৈরি হবে। ২. এফিডেভিটের খসড়া (Draft) তৈরি করুন একটি এফিডেভিটে সাধারণ...

মানহানি মামলা: আইন, প্রক্রিয়া ও প্রতিকার

 মানহানি কী? মানহানি হলো এমন একটি অপরাধ যেখানে কেউ মিথ্যা, ভিত্তিহীন বা কুপ্রচারমূলক বক্তব্য বা প্রকাশের মাধ্যমে অন্য ব্যক্তির সম্মান, মর্যাদা বা খ্যাতি ক্ষুণ্ণ করে। মানহানি দুই ধরনের হতে পারে— মৌখিক মানহানি (Slander): মুখে বলা মানহানি লিখিত বা প্রকাশিত মানহানি (Libel): চিঠি, সংবাদপত্র, সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেইল বা অন্যান্য মাধ্যমে প্রকাশিত মানহানি বাংলাদেশে মানহানি ফৌজদারি ও দেওয়ানি উভয়ভাবে মামলা করার অধিকার রয়েছে। মানহানি মামলার ধরন ১. ব্যক্তিগত মানহানি: কারও সামাজিক, পারিবারিক বা ব্যক্তিগত খ্যাতি ক্ষুণ্ণ করা। ২. পেশাগত মানহানি: চাকরি, ব্যবসা বা পেশাগত পরিচয়ে আঘাত করা। ৩. সামাজিক বা প্রকাশ্য মানহানি: সোশ্যাল মিডিয়া, ব্লগ, সংবাদপত্র বা ইন্টারনেটে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ প্রকাশ করা। মামলা করার অধিকার যদি আপনার সম্মান বা খ্যাতি ক্ষুণ্ণ হয়, আপনি মামলা করতে পারেন। এর জন্য প্রয়োজন: ক্ষতিপূরণের প্রমাণ (মিথ্যা তথ্যের প্রমাণ, প্রকাশিত লিঙ্ক বা প্রিন্ট) সাক্ষীর বিবৃতি যদি সম্ভব হয়, মানহানির মাধ্যমে আর্থিক বা সামাজিক ক্ষতির প্রমাণ মামলা দায়েরের ধাপ থানায় অভিযোগ (জিডি / এজাহার) প্...

প্রতারণা মামলা: আইন, প্রক্রিয়া ও শাস্তি

  প্রতারণা কী? বাংলাদেশের ফৌজদারি আইন অনুযায়ী, প্রতারণা হলো এমন একটি অপরাধ যেখানে কেউ মিথ্যা তথ্য, জাল দলিল বা ভুয়া প্রতিশ্রুতি ব্যবহার করে অন্যের অর্থ, সম্পত্তি বা সুবিধা হাতিয়ে নেয়। প্রতারণা সাধারণত ঘটে— ব্যবসা বা লেনদেনের সময়, জমি ও সম্পত্তি কেনাবেচায়, ব্যাংক বা আর্থিক লেনদেনে, বন্ধুত্ব বা পারিবারিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে। আইন অনুযায়ী, প্রতারণা দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এর শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতারণার ধরন ১. অর্থ প্রতারণা: মিথ্যা বা ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে অর্থ হাতানো। ২. সম্পত্তি প্রতারণা: দলিল জাল, দলিল বিকৃতি বা মালিকানা ভুয়া দেখিয়ে সম্পত্তি দখল করা। ৩. ব্যবসায়িক বা পেশাগত প্রতারণা: চাকরি, ব্যবসা বা অন্য দায়িত্ব পালনের সময় আস্থা ভঙ্গ করে সুবিধা গ্রহণ। ৪. অনলাইন প্রতারণা: ই-কমার্স, সোশ্যাল মিডিয়া বা ডিজিটাল লেনদেনে মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে অর্থ হাতানো। মামলা করার অধিকার যদি কেউ আপনাকে প্রতারণার শিকার করে, আপনি আইন অনুযায়ী মামলা করতে পারেন। প্রয়োজনীয় প্রমাণ— লেনদেন বা চুক্তির দলিল মেসেজ, ইমেল বা ভিডিও প্রমাণ জাল নথি থাকলে ফরেনসিক রিপোর্ট সাক্ষীর বিবৃতি মামলা দায়েরের ধাপ থানায় অভিযোগ...

অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ মামলা: আইন, প্রক্রিয়া ও শাস্তি

  অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ কী? অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ হলো এমন একটি অপরাধ যেখানে কেউ অন্যের প্রতি আস্থা বা বিশ্বাস ভঙ্গ করে অর্থ, সম্পত্তি বা অন্য কোনো সুবিধা হাতিয়ে নেয়। এটি সাধারণত প্রতারণা বা জালিয়াতির মাধ্যমে সংঘটিত হয়। উদাহরণস্বরূপ: একজন ব্যক্তি নিজের সেবা বা পেশাগত দায়িত্বের আড়ালে অন্যের সম্পত্তি বা অর্থ আত্মসাৎ করলে। আত্মীয়, বন্ধু বা ব্যবসায়ীর প্রতি আস্থা ভঙ্গ করে জাল দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি দখল করা। আইন অনুযায়ী, বিশ্বাসভঙ্গের জন্য দোষী ব্যক্তিকে শাস্তি প্রদান করা হয়। অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের ধরন ১. অর্থ বা সম্পত্তি হাতানো: কাউকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বা প্রতারণা দিয়ে অর্থ বা জমি হাতানো। ২. জালিয়াতি বা নথি জাল করা: দলিল, চুক্তি বা নথি ভুয়া বা বিকৃত করে আস্থা ভঙ্গ করা। ৩. পেশাগত বা দায়িত্বমূলক বিশ্বাসভঙ্গ: চাকুরি, ব্যবসা বা অন্যান্য দায়িত্ব পালনকালে অন্যের আস্থা ভঙ্গ করা। মামলা করার অধিকার যদি কেউ আপনার প্রতি আস্থা ভঙ্গ করে ক্ষতি করে, তাহলে আপনি মামলা করতে পারেন। এর জন্য প্রয়োজন: ক্ষতিপূরণ প্রমাণ করা আস্থা ভঙ্গের প্রমাণ (লিখিত দলিল, চুক্তি, সাক্ষ্য) জাল নথি থাকলে সেটি ফরেনসিক পরীক্ষা ...

ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩: ৭ ও ৮ ধারায় অবৈধভাবে দখলচ্যুত ব্যক্তির দখল পুনরুদ্ধারের আইনগত অধিকার

  বাংলাদেশে জমি দখল, জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও সম্পত্তি দখলচ্যুত করার ঘটনা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ন্যায়বিচার পেতে ভুক্তভোগীদের বড় ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ প্রণয়ন করে। এর মধ্যে ৭ ধারা ও ৮ ধারা সরাসরি সেই ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেয়, যাদের জমি অবৈধভাবে দখল করে নেওয়া হয়েছে। এই দুই ধারার মূল উদ্দেশ্য— ➡ দখলচ্যুত ব্যক্তিকে দ্রুত দখল ফেরত দেওয়া, ➡ অবৈধ দখলকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। ধারা ৭: অবৈধ দখলচ্যুতির সংজ্ঞা ও অপরাধ ধারা ৭ অনুযায়ী, কেউ যদি— জোরপূর্বক, ভয়ভীতি দেখিয়ে, বলপ্রয়োগ করে, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে, বা প্রতারণার মাধ্যমে কারও বৈধ সম্পত্তি থেকে তাকে উচ্ছেদ করে, অথবা অন্যের জমি জোর করে দখল করে, তাহলে এটি অবৈধ দখলচ্যুতি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। শাস্তি (ধারা ৭ অনুযায়ী) সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড। ধারা ৭ এই আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলোর একটি, কারণ এটি জমিদখলের মতো অপরাধকে কঠোরভাবে দণ্ডনীয় করেছে। ধারা ৮: দখল পুনরুদ্ধারের মামলা ও পুনরায় দখল নিশ্চিতকরণ ধারা ৮ অনুযায়ী, যদি কেউ অবৈধভা...

ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩: ৪ ও ৫ ধারায় ভূমি প্রতারণা ও ভূমি জালিয়াতি অপরাধের শাস্তি

বাংলাদেশে ভূমি সংক্রান্ত প্রতারণা, জালিয়াতি ও দখলবাজির ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় সামাজিক সমস্যা। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ চালুর মাধ্যমে সরকার ভূমি-সংক্রান্ত অপরাধ কঠোরভাবে দমন করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ৪ ধারা ও ৫ ধারা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই ধারাগুলো ভূমি প্রতারণা ও জালিয়াতির মতো অপরাধকে সরাসরি দণ্ডনীয় করেছে। ধারা ৪: ভূমি প্রতারণা অপরাধ কী? ধারা ৪ অনুযায়ী, কেউ যদি— মিথ্যা তথ্য দিয়ে, অসত্য নথি ব্যবহার করে, অন্যের জমি নিজের বলে দাবি করে, বা প্রতারণামূলক উপায়ে জমির মালিকানা বদলানোর চেষ্টা করে— তাহলে এটি ভূমি প্রতারণা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ ৫ বছরের সশ্রম/নির্বাস্রম কারাদণ্ড, বা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। দৈনন্দিন জীবনে যেভাবে এই অপরাধ ঘটে মিথ্যা খতিয়ান দেখিয়ে জমি বিক্রি করা এক জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা মালিক না হয়েও মালিক সেজে দলিল তৈরি করা জমির প্রকৃত অবস্থা গোপন রেখে প্রতারণামূলক লেনদেন এ ধরনের সব কর্মকাণ্ডই ধারা ৪ এর আওতায় অপরাধ। ধারা ৫: ভূমি জালিয়াতি অপরাধ কী? ধারা ৫ অনুযায়ী, কেউ যদি— ভূমি...

বিদ্যুৎ আইনের মামলা: বিদ্যুৎ চুরি, অবৈধ সংযোগ, বিল বকেয়া ও শাস্তি—বাংলাদেশে সম্পূর্ণ গাইড

  বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ব্যবহার ও বিতরণ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮ (Electricity Act, 2018) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই আইনে বিদ্যুৎ চুরি, অবৈধ সংযোগ, মিটার টেম্পারিং, লাইনে হস্তক্ষেপ, বকেয়া বিল না দেওয়া—এসব অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং দণ্ডনীয়। প্রতিদিনই দেশে এসব অভিযোগে অসংখ্য মামলা হয়। তাই সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, বাড়ির মালিক বা ভাড়াটের জন্য বিদ্যুৎ আইনের মামলা সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আর্টিকেলে থাকছে— ✔️ বিদ্যুৎ চুরি কী? ✔️ কোন কাজগুলো অপরাধ? ✔️ কিভাবে মামলা হয়? ✔️ শাস্তি কত? ✔️ বকেয়া বিল নিয়ে মামলা কি সম্ভব? ✔️ মিটার টেম্পারিং ধরা পড়লে কী করবেন? ✔️ আদালতের প্রক্রিয়া বিদ্যুৎ আইনের আওতায় কোন কাজগুলো অপরাধ? বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী নিম্ন কাজগুলো দণ্ডনীয় অপরাধ: ১. বিদ্যুৎ চুরি (Electricity Theft) অবৈধ লাইন নেওয়া হুকিং অন্যের মিটার থেকে সংযোগ নেওয়া গোপনে লাইন টেনে ব্যবহার করা ২. মিটার টেম্পারিং মিটার ধীর করে দেওয়া মিটার খুলে কারসাজি করা চুম্বক ব্যবহার মিটার ব্যyp.org থেকে ঘুরানো ইত্যাদি ৩. বিল বকেয়া রেখে বিদ্যুৎ ব্যবহার দীর্ঘ সময় বকেয়া রেখে সংযোগ চালু রাখা বারবার বিল না ...

চেক ডিজঅনার মামলা: আইন, প্রক্রিয়া, নোটিশ, শাস্তি ও সময়সীমার সম্পূর্ণ গাইড

  বাংলাদেশে আর্থিক লেনদেনে চেক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু অনেক সময় চেক ব্যাংকে জমা দিলে “ডিজঅনার” বা প্রত্যাখ্যান হয়ে যায়। এতে পাওনাদার আর্থিক ক্ষতির শিকার হন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারা অনুযায়ী মামলা করা যায়। এই আর্টিকেলে চেক বাউন্সের কারণ, মামলা করার নিয়ম, নোটিশ পাঠানোর সময়সীমা, শাস্তি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র—সবকিছু পরিষ্কার ব্যাখ্যা করা হলো। চেক ডিজঅনার কী? যখন ব্যাংক কোনো চেক পর্যাপ্ত টাকা না থাকা, স্বাক্ষর না মেলা, অ্যাকাউন্ট বন্ধ, স্টপ পেমেন্ট, ক্লিয়ারিং সমস্যা—ইত্যাদি কারণে পরিশোধ করতে অস্বীকার করে, তাকে চেক ডিজঅনার বা চেক বাউন্স বলে। বাংলাদেশে চেক ডিজঅনার মামলার আইন চেক প্রত্যাখ্যান হলে Negotiable Instruments Act, 1881 – Section 138 অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং দণ্ডনীয়। চেক ডিজঅনারের সাধারণ কারণ অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা নেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ স্বাক্ষর মিলছে না তারিখ ভুল ওভাররাইটিং ব্যাংক নির্দেশিত "Stop Payment" চেকের মেয়াদ শেষ চেক ডিজঅনার মামলার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া (ধাপে ধাপে) চেক বাউন্স হলেই আদালতে...

ডিভোর্স (তালাক) বাংলাদেশে কিভাবে হয়? আইন, প্রক্রিয়া, নোটিশ, সময়সীমা ও অধিকারের সম্পূর্ণ গাইড

  বাংলাদেশে ডিভোর্স বা তালাক একটি স্বীকৃত আইনি প্রক্রিয়া। মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী স্বামী বা স্ত্রী—উভয়েই নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারেন। তবে অনেকেই সঠিক নিয়ম না জানার কারণে তালাক বৈধ হয় না, যার ফলে ভবিষ্যতে আইনি সমস্যা দেখা দেয়। এই আর্টিকেলে আমরা ডিভোর্স/তালাকের আইন, প্রক্রিয়া, নোটিশ, সময়সীমা, রেজিস্ট্রেশন, স্ত্রী ও স্বামীর অধিকার, এবং সাধারণ প্রশ্নোত্তর সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করব। তালাক (Divorce) কী? মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী তালাক হলো— স্বামী বা আদালতের মাধ্যমে স্ত্রীকে বৈধভাবে বিবাহ বিচ্ছেদ করা। বাংলাদেশে তালাক কার্যকর হয় Muslim Family Laws Ordinance, 1961-এর ৭ ধারা অনুযায়ী। বাংলাদেশে তালাকের ৩টি প্রধান উপায় ১. স্বামীর মাধ্যমে তালাক (Talaq by Husband) স্বামী “তালাক” উচ্চারণ বা লিখিতভাবে জানালে তা তালাক হিসেবে গণ্য হয়, তবে তৎক্ষণাত কার্যকর হয় না—আইনি প্রক্রিয়া মানা বাধ্যতামূলক। ২. স্ত্রীর মাধ্যমে তালাক (Talaq-e-Tafweez / Delegated Divorce) কাবিননামার ১৮ ধারায় স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেওয়া থাকলে তিনি নিজেই তালাক দিতে পারেন। ৩. আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ (Khula...

বাংলাদেশে কোর্ট ম্যারেজ: আইন, প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও খরচ

  বর্তমান সময়ে কোর্ট ম্যারেজ বা রেজিস্ট্রি বিয়ে তরুণ-তরুণীদের কাছে একটি নিরাপদ ও আইনসম্মত উপায় হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে। পরিবারে মতানৈক্য, দূরত্ব, অথবা সম্পূর্ণ আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য অনেকেই কোর্ট ম্যারেজ করেন। তবে অনেকেই জানেন না—বাংলাদেশে আসলে কোর্ট ম্যারেজ কীভাবে হয়, কোন আইন এ বিষয়ে প্রযোজ্য এবং কী কী কাগজপত্র লাগে। এই আর্টিকেলে আমরা কোর্ট ম্যারেজের আইন, প্রক্রিয়া, শর্ত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, খরচ, রেজিস্ট্রি অফিসের নিয়ম, এবং সতর্কতা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করব। কোর্ট ম্যারেজ আসলে কী? বাংলাদেশে “কোর্ট ম্যারেজ” নামে আলাদা কোনো আইন নেই। প্রচলিত আইন অনুযায়ী— ➡️ মুসলিমদের ক্ষেত্রে — মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ ➡️ হিন্দুদের ক্ষেত্রে — হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ ➡️ খ্রিষ্টানদের ক্ষেত্রে — খ্রিষ্টান বিবাহ আইন, ১৮৭২ ➡️ বিশেষ পরিস্থিতিতে — বিশেষ বিবাহ আইন, ১৮৭২ (Special Marriage Act) এই আইনগুলোর আওতায় বিয়ের রেজিস্ট্রেশন কোর্ট বা ম্যাজিস্ট্রেট অফিসের আশেপাশে সম্পন্ন হওয়াকে অনেকে “কোর্ট ম্যারেজ” বলে। অর্থাৎ, রেজিস্ট্রি অফিসে বৈধ নথি দিয়ে আইন অনুযায়ী বিয়ে রেজিস্ট্রি করাকেই...

যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী মামলা: অভিযোগ, শাস্তি ও করণীয়

বাংলাদেশে বিবাহ ও পারিবারিক জীবনে যৌতুক একটি সামাজিক ব্যাধি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান। এ সমস্যা প্রতিরোধে সরকার যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ প্রণয়ন করেছে। এর মধ্যে ৩ ধারা যৌতুক দাবি, প্রদান ও গ্রহণের বিরুদ্ধে কঠোর বিধান নির্ধারণ করে। এই আর্টিকেলে আমরা ধারা ৩ অনুযায়ী কোন কাজগুলো অপরাধ, কী শাস্তি হতে পারে এবং কিভাবে মামলা করা যায়—সেগুলো পরিষ্কারভাবে আলোচনা করব। ধারা ৩ কী বলে? যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারা অনুযায়ী— যৌতুক দাবি করা, যৌতুক প্রদান করা, যৌতুক গ্রহণ করা, এ—তিনটির যেকোনোটি করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। শাস্তি ধারা ৩ অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হলে— ➡️ সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড অথবা ➡️ সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা ➡️ উভয় দণ্ডই হতে পারে। এটি জামিন অযোগ্য, সজ্ঞেয়, এবং অপরাধ বিজ্ঞ আদালতে বিচারযোগ্য। যৌতুক দাবি কীভাবে প্রমাণিত হয়? ধারা ৩-এর মামলায় সাধারণত নিচের বিষয়গুলো প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ— মৌখিক বা লিখিত যৌতুক দাবি মোবাইল কল রেকর্ড, মেসেজ, মেসেঞ্জার/হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সাক্ষীর জবানবন্দি পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনা আর্থিক লেনদেন বা উপহার দেওয়ার প্রমাণ যৌতুকের লেনদেন বা চাপ প্...

চেক ডিজঅনার মামলা: কারণ, মেয়াদ, আপীল ও শাস্তি – একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি বিশ্লেষণ

Image
 বাংলাদেশে বাণিজ্যিক লেনদেন ও ব্যক্তিগত দেনা-পাওনা মেটানোর ক্ষেত্রে চেক একটি নিরাপদ ও বহুল ব্যবহৃত মাধ্যম। তবে বিভিন্ন কারণে চেক অকার্যকর (Dishonoured) হলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলা করা যায়। এ ধরনের মামলার বিচার ও শাস্তির বিষয়টি মূলত নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, 1881 (ধারা 138-140) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। চেক ডিজঅনার (Dishonour of Cheque) কি? কোনো ব্যক্তি ব্যাংকে চেক জমা দেওয়ার পর যথাযথ কারণে ব্যাংক চেকটি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে একে চেক ডিজঅনার বা চেক বাউন্স বলা হয়। চেক ডিজঅনার হওয়ার সাধারণ কারণসমূহ: একাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকা স্বাক্ষর মিল না হওয়া একাউন্ট বন্ধ থাকা চেকের কারেকশন/স্ক্র্যাচ স্টপ পেমেন্ট নির্দেশনা চেকের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া চেক বাউন্স হলে চেকদাতা (Drawer) এর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায়। চেকের মেয়াদ (Validity of Cheque) বাংলাদেশে বর্তমানে একটি চেকের মেয়াদ: ইস্যুর তারিখ থেকে ৬ মাস (Negotiable Instruments Act অনুযায়ী) অর্থাৎ চেক হাতে পাওয়ার পর ছয় মাসের মধ্যে ব্যাংকে পেশ করতে হবে। এর পর চেকটি মেয়াদোত্তীর্ণ বলে...

আইনে ডিভোর্স বা তালাক: বিধান, প্রক্রিয়া ও বাস্তব প্রয়োগ — একটি আইনি বিশ্লেষণ

Image
 বাংলাদেশে মুসলিম পরিবারের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের প্রধান স্বীকৃত পদ্ধতি হলো তালাক (Talāq)। এটি স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে দেয়া বিচ্ছেদের ঘোষণা। তবে তালাক শুধুমাত্র ধর্মীয় নিয়মে উচ্চারণ করলেই কার্যকর হয়— এমন ধারণা ভুল। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তালাক নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করলে তালাক কার্যকর হয় না। এই ব্লগে আমরা তালাকের আইনি ভিত্তি, আইনি ধাপ, নারী-পুরুষ উভয়ের অধিকার, এবং তালাক কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। আইনি ভিত্তি বাংলাদেশে তালাক সম্পর্কিত প্রধান আইনসমূহ হলো— ১. মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (Muslim Family Laws Ordinance - MFLO, 1961) এর ৬ নম্বর ধারা তালাকের নোটিশ ও কার্যকারিতা নিয়ে বাধ্যতামূলক বিধান নির্ধারণ করে। ২. মুসলিম বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ এতে তালাক ভিত্তিক নিবন্ধনের বিধান রয়েছে। তালাকের ধরন (ইসলামী দৃষ্টিকোণ) ১. তালাক-এ-সুন্নাত (বিধিসম্মত তালাক) একবার তালাক ঘোষণা ইদ্দত শেষে কার্যকর রুজু (পুনরায় গ্রহণ) করা যায় ২. তালাক-এ-বিদআত (তিন তালাক একসাথে) তিন তালাক একত্রে বলা— শরিয়তে অপছন্দনীয় বাংলাদেশে আইনগতভাবে এক তালাক হিসেবে গণ্...

ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন | ৮ ধারা | অবৈধভাবে দখলচ্যুত ব্যক্তির দখল পুনরুদ্ধারের আবেদন

Image
 ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন Posted by Adv R. Biswas on November 1, 2023 ভূমি সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকার সাম্প্রতিক ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করেন। এই আইনের ৪ ধারায় ভূমি প্রতারণা সংক্রান্ত অপরাধ ও শাস্তির বর্ণনা আছে। দণ্ডবিধির ৪১৫ ধারায় প্রতারণা (Cheating) এর সংজ্ঞা দেওয়া আছে। সাধারণত যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তিকে ছলনা করে অসাধুভাবে কোন ব্যক্তির নিকট কোন সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে যার ফলে ভুক্তভোগী ব্যক্তির ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে তবে উক্ত ছলনাকারী ব্যক্তি প্রতারণা করেছে বলে গণ্য হবে। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ আইনের ৪ ধারা অনুসারে, ভূমি হস্তান্তর, জরিপ, রেকর্ড হালনাগাদকরণ বা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে নিম্নবর্ণিত যে কোনো কার্য ভূমি প্রতারণা সংক্রান্ত অপরাধ বলে গণ্য হবে, যেমন:- অন্যের মালিকানাধীন ভূমি স্বীয় মালিকানাধীন ভূমি হিসাবে প্রচার করা; তথ্য গোপন করে কোনো ভূমি কোনো ব্যক্তি বরাবর হস্তান্তর বা সমর্পণ করা; স্বীয় মালিকানাধীন ভূমির অতিরিক্ত ভূমি বা অন্যের মালিকানাধীন ভূমি কোনো ব্যক্তি বরাবর হস্তান্তর বা সমর্প...

যৌতুক মামলা: বাংলাদেশে আইন, প্রক্রিয়া ও করণীয়

Image
 বাংলাদেশে যৌতুক একটি সামাজিক ব্যাধি। বিয়ে অনুষ্ঠানে উপহার বা সম্মানসূচক সামগ্রী দেওয়া–নেওয়ার প্রচলন সমাজে দীর্ঘদিন থাকলেও জোরপূর্বক যৌতুক দাবি করা এবং তা আদায়ের জন্য নারীকে নির্যাতন করা একটি অপরাধ। এ সমস্যা রোধে বাংলাদেশ সরকার “যৌতুক নিষেধ আইন, ২০১৮” পাস করে কঠোর শাস্তির বিধান রেখেছে। এই ব্লগে যৌতুক আইন, অপরাধের ধরন, মামলা করার পদ্ধতি, প্রতিরক্ষা, শাস্তি ও করণীয়—সবকিছু সহজভাবে আলোচনা করা হলো। যৌতুক কী? (যৌতুক নিষেধ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী) আইনের ভাষায়— বিয়ে বা বিবাহের পূর্বে, বিবাহের সময় বা বিবাহের পরে যে কোনো বস্তু, সম্পদ, অর্থ বা মূল্যমানের জিনিস বিশেষভাবে বরের পরিবার দাবি করলে তা যৌতুক হিসেবে গণ্য হবে। ➡️ স্বেচ্ছায় উপহার যৌতুক নয়, তবে তা অবশ্যই লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করা থাকতে হবে। যৌতুক দাবির অপরাধ (১) যৌতুক দাবি করা কারো কাছ থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যৌতুক দাবি করলে, এমনকি প্রচেষ্টাও অপরাধ। শাস্তি: ✔️ সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ✔️ অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ✔️ অথবা উভয়দণ্ড। (২) যৌতুকের জন্য নির্যাতন করা যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন, মারধর, হুমকি, তাড়িয়ে দেওয়া—সবই যৌত...

কোর্ট ম্যারেজ: বাংলাদেশে আইনগত প্রক্রিয়া, শর্ত ও করণীয়

Image
 বাংলাদেশে “কোর্ট ম্যারেজ” শব্দটি সাধারণ মানুষের কাছে প্রচলিত হলেও আইনি ভাষায় এর প্রকৃত রূপ ভিন্ন। অনেকেই মনে করেন আদালতে হাজির হয়ে বিচারকের সামনে স্বাক্ষর করলেই কোর্ট ম্যারেজ হয়ে যায়—কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এরকম নয়। বাংলাদেশে কোর্ট ম্যারেজ বলতে বোঝায় আইন অনুযায়ী রেজিস্ট্রি কর্মকর্তা (Marriage Registrar) বা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে নিবন্ধন করা, যা পরে প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতের হলফনামা দ্বারা বৈধতা নিশ্চিত করা হয়। এই ব্লগে কোর্ট ম্যারেজের আইনি ভিত্তি, প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ব্যয় এবং বিশেষ সতর্কতা আলোচনা করা হলো। কোর্ট ম্যারেজ কী? বাংলাদেশে কোর্ট ম্যারেজ বলতে বোঝায়— দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষের স্বেচ্ছায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আইনগতভাবে বিয়ে নিবন্ধন করা। এটি সাধারণত হয়— মুসলিম দম্পতির ক্ষেত্রে মুসলিম পারিবারিক আইন (Nikahnama) অনুযায়ী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য Hindu Marriage Registration Act, 2012 খ্রিস্টানদের ক্ষেত্রে Christian Marriage Act, 1872 আন্তধর্মীয় বা ভিন্ন ধর্মের ক্ষেত্রে Special Marriage Act, 1872 (যা সাধারণভাবে “কোর্ট ম্যারেজ” নামে বেশি পরিচিত) কোর্...

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন: একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি বিশ্লেষণ

Image
বাংলাদেশের নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ আইন রয়েছে। এর মধ্যে "নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০" (সংশোধিত ২০০৩, ২০২০) অন্যতম শক্তিশালী ও কঠোর আইন। এই আইনের উদ্দেশ্য হলো নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, যৌন নির্যাতন, মানবপাচার ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতন প্রতিরোধ করা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা। কেন এই আইন প্রণয়ন করা হয়? বাংলাদেশে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা একটি দীর্ঘদিনের সামাজিক সমস্যা। ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, পণ দাবিতে নির্যাতন, অপহরণ, অঙ্গহানি ইত্যাদি অপরাধ বাড়তে থাকায় সাধারণ ফৌজদারি আইনের বাইরে একটি বিশেষ কঠোর আইন প্রয়োজন হয়েছিল। সেই লক্ষ্যেই ২০০০ সালে এই আইন প্রণয়ন করা হয়। আইনে কোন অপরাধগুলো শাস্তিযোগ্য? ১. ধর্ষণ (Section 9) ধর্ষণ করলে কঠোর সাজা, সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড। ধর্ষণে শিশুর মৃত্যু ঘটলে — মৃত্যুদণ্ড বাধ্যতামূলক। গ্যাং-রেপ হলে — মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ২. যৌন নির্যাতন / শ্লীলতাহানি (Section 10) জোরপূর্বক স্পর্শ করা, শ্লীলতাহানি, পোশাক খুলে ফেলা বা বিবস্ত্র করার চেষ্টাও শাস্তিযোগ্য। সাজার পরিমাণ: সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানা ৩. এসিড নিক্ষেপ (Se...

তালাক কার্যকর হওয়ার নিয়ম ও তালাক প্রত্যাহারের উপায় — একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি বিশ্লেষণ

Image
ইসলামী আইন ও বাংলাদেশে প্রচলিত মুসলিম পার্সোনাল ল’ অনুযায়ী তালাক একটি গুরুতর ও সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া। এটি সঠিক নিয়মে সম্পন্ন না হলে তালাক কার্যকর হয় না, আবার ভুলভাবে দেওয়া হলে পরবর্তীতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। নিচে তালাক কার্যকর হওয়ার পর্যায়গুলো থেকে শুরু করে তালাক প্রত্যাহারের সম্পূর্ণ আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো। তালাক কীভাবে কার্যকর হয়? (Step-by-Step নির্দেশিকা) বাংলাদেশে মুসলিম পার্সোনাল ল’ অনুযায়ী তালাক কার্যকর করতে সাধারণত তিনটি ধাপ অনুসরণ করা হয়: ১. তালাক উচ্চারণ বা লিখিত ঘোষণা স্বামী নিম্নলিখিত যেকোনোভাবে তালাক দিতে পারেন— মৌখিকভাবে (স্পষ্ট শব্দে—যেমন: “আমি তোমাকে তালাক দিলাম”) লিখিতভাবে (তালাকনামা/নোটিশ আকারে) অস্পষ্ট বা রাগের মুহূর্তে আবেগে বলা ঝাপসা কথায় তালাক হয় না; শব্দটি স্পষ্ট এবং উদ্দেশ্য পরিষ্কার হতে হবে। ২. তালাকনামা ইউনিয়ন পরিষদ/সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভাকে নোটিশ পাঠানো বাংলাদেশের Muslim Family Laws Ordinance, 1961 (MFLO 1961) এর ৭ নং ধারা অনুযায়ী— স্বামীকে ইউনিয়ন পরিষদ (গ্রামাঞ্চল), সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভায় চেয়ারম্যান/মেয়রের কাছে তালাকের লিখিত নোটিশ পাঠাতে হবে। স্ত্রীকেও ওই ক...